আর ঘুরবে না কালিবাবুর জিলাপির প্যাচ

Nov. 28, 2017, 6:33 p.m. সমগ্র বাংলা


এই দোকানের জিলাপিকে সবাই ‘বাটার মোড়ের জিলাপি’ নামেই ডাকেন। ঐতিহ্যবাহী এই জিলাপির কারিগর কালিবাবু আর নেই।

দোকানটির নাম ‘রানীবাজার রেস্টুরেন্ট’। ছোট্ট এই খাবারের দোকানটির খ্যাতি রাজশাহীজুড়ে। এর কারণ শুধু জিলাপি। নগরীর রানীবাজার-বাটার মোড় এলাকায় দোকানটির অবস্থান বলে এই দোকানের জিলাপিকে সবাই ‘বাটার মোড়ের জিলাপি’ নামেই ডাকেন। ঐতিহ্যবাহী এই জিলাপির কারিগর কালিবাবু আর নেই। সোমবার পরলোকগমন করেছেন তিনি।

কালুবাবুর পুরো নাম সন্তোষ কুমার সাহা। তবে তাকে সবাই কালিবাবু নামেই চেনেন। ৫৮ বছর বয়সে মারা গেলেন তিনি। সোমবার বিকেলে নগরীর পঞ্চবটি শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। কালিবাবু দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে বাটার মোড়ের ওই জিলাপির দোকানে কাজ করতেন।

তার ছেলে সঞ্জয় সাহা জানান, তার বাবা বছর পাঁচেক আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এরপর তার হার্টে একটি ব্লক ধরা পড়ে। কালিবাবু নিয়মিত ওষুধ খেলেও চিকিৎসকরা তার অস্ত্রপচারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। কিন্তু কালিবাবুর সে অস্ত্রপচার করা হয়নি।

সঞ্জয় জানান, গত রোববার রাতে নগরীর মথুরডাঙা এলাকায় নিজের বাড়িতেই ঘুমান কালিবাবু। সে রাতে ঘুমের মাঝেই তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়। সকালে তারা বিষয়টি বুঝতে পারেন।

রানীবাজার রেস্টুরেন্টের যাত্রা শুরু ১৯৬০ সালে। কালিপদের বাবা জামিলী সাহা শুরু থেকেই ওই দোকানে জিলাপির কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। তার হাত ধরেই দোকানটির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। এক সময় বাবার হাত ধরে নিজেও জিলাপি বানানো শিখে যান কালিবাবু। বাবার মৃত্যুর পর তিনিই সেখানে জিলাপির কারিগর হিসেবে কাজ শুরু করেন।

দোকানটি এখন সোহেল, শামীম, নাইট এবং নাহিদ নামের চার ভাইয়ের মালিকানায়। সোহেল জানান, তার দাদা তামিজ উদ্দিন এবং বাবা সৈয়ব আলীর যখন দোকানটি চালাতেন তখন দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করতেন কালুবাবুর বাবা। বাপ-দাদার মৃত্যুর পর তারা চার ভাই দোকানটি চালাচ্ছেন। এই দোকানে ৪৭ বছর ধরে কাজ করতেন কালিবাবু। কালিবাবুর চলে যাওয়া তাদের কাছে মেনে নেয়ার মতো নয়। কালিবাবু তাদের পরিবারের একটা অংশ ছিলেন।

কালিবাবুর মৃত্যুতে এখন জিলাপির সুনাম ধরে রাখা সম্ভব হবে কী না, জানতে চাইলে সোহেল বলেন, কালিবাবুর চলে যাওয়ায় দোকানে এর প্রভাব পড়তেই পারে। তবে আমরা সেটি কাটিয়ে উঠে চেষ্টা করবো সুনাম ধরে রাখার।

সৌজন্যে: সাহেব-বাজার২৪.কম