একজন স্বাপ্নিক ও তাঁর জয়যাত্রা

Dec. 18, 2017, 11:39 p.m. অর্থনীতি


বিজনেস ইনোভেশন প্রজেক্ট এন ম্যাপিং ইন থ্রী-ডি উইথ ডিজিটাল ফরমেট সংযোজন ও সাফল্যময় চলমান কার্যক্রমকে ইউরোপীয় মানদন্ডে এক্সেলেন্স ইন কোয়ালিটি হিসেবে এবারের দি ইন্টারন্যাশনাল ডায়মন্ড প্রাইজ-২০১৭ প্রদান করা হয়। এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য অনেক গর্ব ও গৌরবের।

অনিন্দ্য শ্রাবণ:

দেশের মাটিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিজিটাল ল্যান্ড সার্ভে এবং ডিজিটাল সয়েল ইনভেস্টিগেশনের সর্বাধুনিক যে ক’টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের মধ্যে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হলো গৃহায়ন লিমিটেড। শুধু দেশের মাটিতে নয় দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে এর সুনাম ও খ্যাতি। একঝাঁক নবীন-প্রবীন কর্মচারী-কর্মকর্তার আন্তরিক কর্মযজ্ঞ ও দক্ষ পরিচালনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রযুক্তিগত বিজয় অর্জনে গৃহায়ন লিমিটেড কাজ করে যাচ্ছে পূর্ণ উদ্যমে। নবীনের উদ্যম আর প্রবীনের অভিজ্ঞতা এ দুইয়ের সংমিশ্রণে এক অনন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর উদয় সত্যিই এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্তের দাবী রাখে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মৃণাল কান্তি বড়ুয়া। বাংলাদেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে দীর্ঘদিন সুনামের সহিত অধ্যাপনার কাজ সমাপ্ত করে অবসর গ্রহণের পর জন্ম দেন গৃহায়নের। হাটি হাটি পা পা করে আজ প্রতিষ্ঠানটি মহিরুহে পরিণত হয়েছে। এই বৃহৎ অগ্রগামীতার পথে প্রকৌশলী মৃণাল কান্তি বড়ুয়া ও রত্নগর্ভা মা বীণাপাণি বড়ুয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক; প্রকৌশলী শান্তনু বড়ুয়া পরিচালক; প্রকৌশলী রাজীব বড়ুয়া পরিচালক হিসেবে কোম্পানীকে এনে দিয়েছেন এক অনন্য মাত্রা।
২০০৭ সাল থেকে এনালগ বা সনাতন কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি নির্ভুলভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চট্টগ্রাম শুধু নয় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সর্বপ্রথম ডিজিটাল ল্যান্ড সার্ভে এবং সয়েল ইনভেস্টিগেশন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও গৃহায়ন লিমিটেড রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সয়েল ইনভেস্টিগেশন,বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সিলেটের চা বাগানের ৪০ হাজার একর জমির মাস্টার প্ল্যানের সফল ডিজিটাল মানচিত্র প্রণয়ন,পদ্মার অপর অংশে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচের সয়েল টেস্ট, চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপ লাইনে প্রথম বারের মতো HDD digital technology ব্যবহার অর্থাৎ মাটি না খুঁড়ে মাটির ২০ ফুট নিচে দিয়ে ফুটো করে সম্পূর্ণ কম্পিউটার প্রযুক্তিতে পাইপ স্থাপন এবং মাতারবাড়ি ডিপ সী পোর্টে ডিজিটাল সয়েল ইনভেস্টিগেশনসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক মানের বৃহত্তম প্রজেক্ট সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করেছে।

গত ৯ ডিসেম্বর ২০১৭, গৃহায়ন লিমিডেট ‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সোসাইটি ফর কোয়ালিটি রিসার্স’ কর্তৃক ‘ইন্টারনেশনাল ডায়মন্ড প্রাইজ ফর এক্সেলেন্স ইন কোয়ালিটি ভিয়েনা ২০১৭’ সম্মাননায় ভূষিত হয়। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত ‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সোসাইটি ফর কোয়ালিটি রিসার্স’ এর এবারের কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক অস্ট্রিয়ান রাজার প্রাচীন রাজকীয় গেস্ট কম্পাউন্ডে। এতে ইউরোপীয় রিসার্স মানদন্ডে সারা এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা,ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া থেকে বিশ্বের ১৮২ টি কোম্পানী,অর্গানাইজেশন, এডমিনিস্ট্রেশন, পাবলিক ও ইনডিভিজুয়াল অংশ নেয়। কনভেনশনে অংশগ্রহণকারীবৃন্দ গতিশীল পৃথিবী, সাম্যের পৃথিবী, অভিন্ন মানবজাতি প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তি বিকাশ ও উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যবসায়িক থীম, সবুজ প্রযুক্তি, নিরাপদ পৃথিবী, তরুণ প্রজন্ম ও মানবসেবামূলক প্রত্যয় বিষয়ক বক্তব্য ও পেপার উপস্থাপন করেন। এতে ব্যক্তিগত বা ইনডিভিজুয়াল কোটায় সুপেরিয়র ডেভেলপম্যান্ট এফোর্ট হিসেবে গৃহায়ন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়া এফ, আই, ই, বি  ‘লেট স্ট্যার্ট এন্ড কাম ফরোয়ার্ড ফর স্ট্যাবিলিশিং ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক রূপরেখাকে বাস্তব ও অনুকরণীয় হিসেবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রিসার্স সোসাইটি গ্রহণ করে এবং বিজনেস লীডারশীপ, সাম্প্রতিক বিজনেস ইনোভেশন প্রজেক্ট এন ম্যাপিং ইন থ্রী-ডি উইথ ডিজিটাল ফরমেট সংযোজন ও সাফল্যময় চলমান কার্যক্রমকে ইউরোপীয় মানদন্ডে এক্সেলেন্স ইন কোয়ালিটি হিসেবে এবারের দি ইন্টারন্যাশনাল ডায়মন্ড প্রাইজ-২০১৭ প্রদান করা হয়। আড়ম্বরপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিষ্ঠিত স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব ও কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিতিতে গৃহায়ন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়া এফ,আই,ই,বি  পদকটি গ্রহণ করেন।  উল্লেখ্য যে, ইতোপূর্বে তিনি ব্যক্তিগত সাফল্যের মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের জন্য আরো অর্জন করেন 'যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ইন্টারন্যাশনাল বি আই ডি কোয়ালিটি কনভেনশনে ‘ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিটি ক্রাউন এওয়ার্ড ২০১৬’ এবং ফ্রান্সের প্যারিসে 'আই এস আল কিউ সি এওয়ার্ড ২০১৪'। ফলে গৃহায়ন লিমিটেড পেয়েছে কিউ সি-১০০ সার্টিফাইড কোম্পানীর মর্যাদা।  বিজয়ের মাসে এমন  সাফল্য স্বীকৃতিতে প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়া আন্তর্জাতিক এই পুরস্কার দেশের সকল শহীদের স্মরণে, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আগামীর প্রজন্মকে উৎসর্গ করেছেন। এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য অনেক গর্ব ও গৌরবের। পদক অর্জনের পর তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক একাউন্টে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন এইভাবে:

“২০১৭, বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের ৪৬ তম বছরের ৩০ অক্টোবরে জাতিসংঘ বৈশ্বিক স্বীকৃতি দিলো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ।
‘দাবাইয়া রাখতে পারবা না’:বঙ্গবন্ধু

প্রজন্ম তা প্রমাণ করে চলেছে ডিজিটাল বাংলাদেশের কর্মযাত্রায়। বিজয়ের মাসে ৯ ডিসেম্বরের ২০১৭ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর সোসাইটি ফর রিসার্স, ভিয়েনা কনভেনশন-২০১৭-তে এবার স্বীকৃতি দিল। প্রজন্মের কর্ম ও পরিকল্পনা আগামীর ভিশন-২১-কে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা, মধ্যম আয়ের দেশ হবে স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী ৫০ বছর উদযাপনের মধ্য দিয়ে। ক্ষুধামুক্ত,দারিদ্র্যমুক্ত, শোষণহীন,অসাম্প্রদায়িক চেতনার ৬ দফার বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ এর প্রবক্তা বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ হাঁটবে শত বছরের পথে। চিরজীবী বাংলাদেশ হয়ে উঠবে মাদার অব হিউমিনিটি শেখ হাসিনার হাত ধরে পৃথিবীর রোল মডেল।...”

ব্যক্তিগত জীবনে পুলক কান্তি বড়ুয়া এক সাদাসিধে জীবনের অধিকারী। পিতামাতা, ভাই, ভ্রাতৃবধুদের নিয়ে গঠিত একান্নবর্তী পরিবারে স্ত্রী সহকারী অধ্যাপক হ্যাপি বড়ুয়া ও তিন সন্তানকে নিয়ে তার সুখের নীড়। শিক্ষা-সংস্কৃতি-শিল্প ও সাহিত্যের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তার অবস্থান অনেক ভূয়সী প্রশংসার দাবীদার।  শিশুকাল থেকে কবিতা আবৃত্তি, নাটক, উপস্থিত বক্তৃতাসহ বিভিন্ন সুকুমারবৃত্তিতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তার বিচরণ সাফল্যজনক। মননশীল পরিবারের সন্তান হিসেবে এসব কারণে তার মধ্যে নের্তৃত্ব দেওয়ার ও সাফল্যের অধিকারী হওয়ার সক্ষমতা দৃঢ় হয় সেই ছোটবেলা থেকে। ফলশ্রুতিতে কোনও রাজনৈতিক দলের বিশেষ পদবীর অধিকারী না হয়েও তিনি ডুয়েট বাস্তবায়ন আন্দোলনের মূল নেতা হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নেতৃত্বের ভার পান।  বাঙালির বোধের জাগরণের লক্ষে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ বাঙালি মূলনিবাসী ইউনিয়ন। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক ভাবনা ও স্বচ্ছ নের্তৃত্বের গুণাবলি নিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখেন আত্মনির্ভর বাঙালির, যে বাঙালি জেতার জন্য লড়ে, লড়ে সুখ, সাম্য ও শান্তির জন্য।  

 লেখক: প্রাবন্ধিক