জরুরি সেবায় ৯৯৯ উদ্বোধন

টোল ফ্রি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে

প্রতিবেদক: নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে আজ থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ইমার্জেন্সি হেল্পলাইন ‘৯৯৯’।দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে টোল ফ্রি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর আবদুল গণি রোডে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে সেবাটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

অনুষ্ঠানে জয় বলেন, ‘এই সার্ভিসের মাধ্যমে উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও এখন মুহূর্তের মধ্যেই পুলিশের সহায়তা পাওয়া যাবে।’তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় কোথাও আগুন লাগলে জরুরি নম্বরে ফোন করা হলে সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভায়। বাংলাদেশেও এরকম একটি সেবা উদ্বোধন করা হলো। যাতে একটি কলেই পুলিশের সেবা পাওয়া যায়।’

৯৯৯ সেবাটি ডিএমপির এই কন্ট্রোল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। এই কল সেন্টারের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা ২৪ ঘণ্টায় সেবা দেবেন।টোল ফ্রি হিসেবে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে নাগরিকরা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে পারবেন। এ জন্য গ্রাহকের কোনো রকম খরচ লাগবে না।৩বছরের ২১ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয় ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ৯৯৯ নম্বরটি। এটিতে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে নাগরিকরা ফোন করে জরুরি সেবা নিতে পারবেন।

 

উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন এবং বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সেপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।

 

৯৯৯ হেল্প ডেস্ক মোবাইল অ্যাপলিকেশন ডাউনলোড লিংক: http://bit.ly/2fqnhey। মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ৯৯৯ জরুরি সেবার কল সেন্টারে সরাসরি ফোন, লাইভ চ্যাট, বিভিন্ন তথ্য খোঁজার জন্য সার্চ অপশন ব্যবহার করতে পারবেন নাগরিকেরা। এ ছাড়া এই অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জরুরি প্রয়োজনে জরুরি সেবার বিভিন্ন তথ্য লোকেশনসহ জানা যাবে।

 

নম্বরটিকে দেশে পরিচিত করাতে এবং বিপুল জনগোষ্ঠীর জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে ৬৪ জেলায় ৯৯৯-এর ব্যবহার, প্রচার ও কমিউনিটি সেফটি অ্যাওয়ারনেস কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।পরীক্ষামূলক চালুর পর বেশকিছু ঘটনা আলোচিত হয়েছিল। যার মধ্যে গত বছরের ১৫ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরা হতে খিলক্ষেতের পথে এক বাসযাত্রী রাস্তার পাশে এক বৃদ্ধকে পড়ে থাকতে দেখে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। এরপর ৯৯৯ হতে ফায়ার সার্ভিসকে সংযুক্ত করে দেয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস বিস্তারিত শুনে ওই আহত বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।

আর চলতি বছরের শুরুর দিকে গুলশান-১ এর একটি গণমাধ্যম অফিসে আগুন লাগে। একজন কর্মী সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ এ কল করে বিষয়টি জানান আর দ্রুতই ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভায়। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালুর মাত্র ১০০ দিনে এই ন্যাশনাল হেল্প ডেস্কে ৯ লাখ কল করেছেন নাগরিকরা। এর মধ্যে ১৯ হাজার নাগরিক বিভিন্ন জরুরি সেবা নিয়েছেন।

২০১৫ সালে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ প্রথমবারের মতো একটি নম্বরকে ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক হিসেবে ৯৯৯কে বেছে নিয়ে তার কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করে। পরে সেটিকে চূড়ান্ত করে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

 

কারুনিউজ/১২ডিসেম্বর/এমআই