জার্মানির যে মসজিদ নারী, পুরুষ, সমকামী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য উন্মুক্ত

বার্লিনের এই মসজিদটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো-এখানে নারী ও পুরুষ একসাথে নামাজ আদায় করেন।সমকামী এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরাও এই মসজিদে অবাধে আসতে পারেন

কারু ডেস্ক :
লাল-ইট পেঁচানো দালান, স্টেইনড-গ্লাসের জানালাখচিত সেন্ট জোহানেস দেখতে অনেকটা ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জার মতো।

ভবনের পিছন দিকে গেলে দেখা যাবে একটি সিঁড়ি। ওই সিঁড়ি বেয়ে কয়েক ধাপ ওপরে ওঠলেই দেখা যাবে সাদা রংয়ের সাধারণ একটি ঘর। ঘরের প্রবেশমুখেই কয়েকটি জুতা সাজিয়ে রাখা এবং সেই ঘরটিতে কয়েকজন মানুষ নামাজ পড়ছেন। কারণ, এটি একটি মসজিদ।

মুসলমানদের নামাজের জন্য এই ঘরটি যাজকদের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া হয়েছে , কিন্তু পাশাপাশি গির্জার কার্যক্রমও চলছে।

কিন্তু মসজিদটি যে শুধু তার অবস্থানের জন্য ব্যতিক্রম তা নয়।

বার্লিনের নতুন এই মসজিদটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো-এখানে নারী ও পুরুষ একসাথে নামাজ আদায় করেন। এমনকি শুক্রবারের নামাজের ইমামতি করেন নারীরা।

এছাড়া সমকামী এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরাও এই মসজিদে অবাধে আসতে পারেন।

"আমাদের মসজিদ সবার জন্য খোলা" বলছেন মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা সায়রা অ্যাটেস। তুর্কী বংশোদ্ভুত এই জার্মান নাগরিক নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেন।
"প্রত্যেক সমাজের মানুষ এখানে আসতে পারবেন। আমরা ওপরওয়ালা নই। আমরা জানিনা কে ভালো মুসলিম, কে খারাপ। যে কেউ এখানে আসতে পারে, সে সমকামী নাকি হিজড়া সে প্রশ্ন করার আমরা কেউ নই"- বলেন সায়রা অ্যাটেস।

দ্য ইবনে রুশদ গ্যেথে মসজিদ কর্তৃপক্ষ বলছে, মুসলিমদের প্রতি অন্য ধর্মের মানুষদের ধ্যান ধারণা পাল্টানোর লক্ষ্যে এই মসজিদ।

তবে এই মসজিদটি ঘিরে ব্যাপক সমালোচনাও তৈরি হয়েছে।

মিস আটেস শখানেক হত্যার হুমকি পেয়েছেন। বিশেষ করে আরব বিশ্ব ও তুরস্ক থেকে চরমপন্থাদের হুমকি এসেছে। এমনকি তুরস্কের একটি টিভিতে ভুয়া খবরও ছড়ানো হয় যে ওই মসজিদে কোরআন নিচে ফেলে অবমাননা করা হয়েছে।

তুরস্কের ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষ এবং মিশরের কর্মকর্তারা বলছেন, ওই মসজিদে যা হয় তা 'ইসলামিক নয়'।

গাম্বিয়া থেকে জার্মানি বেড়াতে আসা এক মুসলিম নাগরিকের মতে "মসজিদটিতে নারী ও পুরুষ একসাথে নামাজ পড়ছে। নারী-পুরুষ একসাথে নামাজ প্রার্থনায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে"।

 


সুত্র :বিবিসি বাংলা

blog comments powered by Disqus