দুদকের মামলায় রানা প্লাজার রানার তিন বছর কারাদণ্ড

Aug. 29, 2017, 4:36 p.m. জাতীয়


রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের দণ্ড দেয়া হয়েছে।

আদালত প্রতিবেদক:
সম্পদের হিসাব দাখিল না করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের দণ্ড দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক কে এম ইমরুল কায়েস এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত রানাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর এ মামলার দুদকের প্রসিকিউটর এমএ সালাউদ্দিন ইস্কান্দর কিং সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তারা সম্পদের হিসাব দাখিল না করায় অভিযোগের এই মামলায় সর্বোচ্চ সাজার রায় পেয়েছেন।

অন্যদিকে রানার আইনজীবী ফারুক আহমেদ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দুদক যখন সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেয় তখন আসামি অন্য মামলায় কারাগারে ছিলেন। তাই তিনি হিসাব দিতে পারেননি। তাই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

এর আগে গত ২২ আগস্ট মামলাটির যুক্তিতের্কর শুনানি শেষে রায় ঘোষণার এ দিন ঠিক করা হয়।

রানার বিরুদ্ধে হত্যা, ইমারত নির্মাণে ত্রুটিসহ নানা অভিযোগে মোট পাঁচটি মামলা ঢাকার আদালতে বিচারাধীন। রানা প্লাজাধসের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে আজই প্রথম কোনো মামলার রায় হলো। বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম ওই দুর্ঘটনার পর এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে চার বছরেরও বেশি সময়।

সম্পদের হিসাব দাখিল না করার মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৩ সালের ২২ মে সোহেল রানা, তার স্ত্রী এবং তার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদসহ দায় দেনার যাবতীয় হিসাব বিবরণীয় দাখিল করতে নোটিশ জারি দেয় দুদক। ওই সময় রানা কাশিমপুর কারাগারে থাকায় তার নামের নোটিশ জারি না হওয়ায় পরে দুদক ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল কাশিমপুর কারাগারে নোটিশ জারি করে। ওই বছর ২ এপ্রিল জেল সুপার নোটিশটি সোহেল রানার কাছে পৌঁছায়।

২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সোহেল রানা সম্পদ বিবরণী ফরম পূরণ না করে তা দুদকের কাছে  ফেরত পাঠান। ওই ঘটনায় ওই বছর ২০ মে দুদকের উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম রমনা থানায় সম্পদের হিসাব দাখিল না করার অভিযোগে রানার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

২০১৬ সালের ১ আগস্ট মামলায় দুদকের উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম আদালতে রানার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রট দাখিল করেন। ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ সোহেল রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। পরে আদালত মামলায় নয় সাক্ষীর মধ্যে আট জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

২০১৩ সালের এপ্রিলে সাভারে সোহেল রানার মালিকানাধীন বহুতল বাণিজ্যিক ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়লে তা বিশ্বব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করে। ওই ধসে ভবনে থাকা পাঁচটি পোশাক কারখানার সহস্রাধিক শ্রমিক মারা যান।

ধসের পর পালিয়ে যাওয়া রানাকে কয়েকদিন পর যশোর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তখন থেকে বন্দি তিনি।

 

 

কারুনিউজ/২৯আগস্ট/আইআইজেড