বন্যায় সব হারিয়ে বানভাসীরা দিশেহারা

Aug. 28, 2017, 6:01 p.m. সমগ্র বাংলা

চোখত আন্দার দেখছি বাহে,কী করমু, কনটে যামু সবই বানোত গেইছে। থাকমু কই, খামু কি? হামার এলা কি হইবে ধ্বংস স্তুপ ও নদীর পার বসে অনেককে চোঁখের পানি ফেলাতে দেখা গেছে

অনিরুদ্ধ রেজা,কুড়িগ্রাম :
বন্যা ও ভাঙ্গন কবলিত এলাকা চিলমারী। পানি বাড়লেও বিপদ কমলেও বিপদ আর বিপদেও উপর চলাই যেন তাদের জীবন। আর ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তীদের সর্ব সময় কাটে অসহায় জীবন। পানি নেমে গেলেও দুর্গত মানুষের মাঝে স্বস্তি ফেরেনি। নতুন করে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। তারা আশ্রয়স্থল থেকে ফিরেই দেখছেন সহায়-সম্পদের বিধ্বস্ত অবস্থা। অনেকে ফিরলেও খুজে পায়নি ভিটামাটি। এতে দুচোখে অন্ধকার দেখছেন অনেকেই।
বন্যা গেলেও দুঃখ যায়নি কুড়িগ্রামের চিলমারীর মানুষের। অনেকে আহাজারি করছেন, ‘চোখত আন্দার দেখছি বাহে, কী করমু, কনটে যামু। সবই বানোত গেইছে। থাকমু কই, খামু কি?’ হামার এলা কি হইবে। ধ্বংস স্তুপ ও নদীর কিনারায় বসেও অনেককে চোঁখের পানি ফেলাতেও দেখা গেছে।
চিলমারী, নয়ারহাট, অষ্টমীরচর, রমনা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সাবেদা (মনতোলা), হালিমাসহ কথা হয় অনেকের সাথে কথা বলতে গেলেই ঝড়ছে তাদের চোখের পানি। সব হারিয়ে তাদের মতো অনেকে এখন পথের ফকির। ঠাঁই হয়েছে অন্যের জায়গায় অথবা আশ্রয়ন প্রকল্পের মাঠে।
জানা গেছে, চিলমারী উপজেলার বানভাসীরা আশ্রয়স্থল থেকে ঘরে ফেরা শুরু করলেও তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। রাস্তাঘাট, ফসল, ঘরের চাল-চুলা সব বন্যায় ভেসে গেছে, ভেঙ্গে গেছে ভিটামাটি, বালিতে চাপা পড়েছে ঘরবাড়ি। নতুন করে সংসার শুরু করতে তাদের হাহাকার করতে হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সড়ক পথজুড়ে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন। কোথাও উঠে গেছে ইট, পাথর। দেখা যাচ্ছে অসংখ্য খানা-খন্দক। কোথাও ভেঙ্গে খন্ড খন্ড হয়ে গেছে সড়ক। ভেসে গেছে পাকা সড়কের মাটিও। সেখানে গভীর গর্তে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ভেঙ্গে গেছে বিভিন্ন কাঁচা পাকা সড়ক। এই ধংসযজ্ঞকে সামনে রেখে দুর্গতরা কেবলই আহাজারি করছেন।
কেবল চিলমারী উপজেলাতেই বন্যায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার ফসলাদির ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে বেশি রয়েছে পাট, বীজতলা, রোপা আমনের আবাদি জমি এবং বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি।
কৃষি অফিস বলছে, বেশিরভাগ এলাকার ফসল ও জমির ক্ষেত একেবারে নষ্ট হয়েছে। চাষিদের নতুন করে আবারও মাঠে নামতে হবে। কৃষকদের সরকারিভাবে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সহযোগিতা করা হবে।
দেখা গেছে, বন্যা-পরবর্তী নদীর তীর ও চরাঞ্চলের লোকজন গৃহস্থালির রকমারি কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউবা ঘর-দরজা মেরামত করছেন, আবার কেউবা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসলাদি উদ্ধারে নাওয়া খাওয়া ছেড়েছেন। অনেকে সব হারিয়ে কান্নাকাটি করছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নেই বন্যার পানি ঢুকে পরায় বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের ঘর দরজা, ফসলাদি ও উর্বর চরাভূমিতে বালির চর পড়ে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

blog comments powered by Disqus