বর্গাচাষিদের আয় ও  উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঋণদান কর্মসূচির মেয়াদ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

Aug. 26, 2017, 2:59 p.m. অর্থনীতি


বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) বর্গাচাষিদের আয় ও  উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঋণদান কর্মসূচির মেয়াদ বাড়িয়েছে। বর্গাচাষিদের মধ্যে এই ঋণের ব্যাপক চাহিদা থাকায়...

কারু ডেস্ক:
বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) বর্গাচাষিদের আয় ও  উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঋণদান কর্মসূচির মেয়াদ বাড়িয়েছে। বর্গাচাষিদের মধ্যে এই ঋণের ব্যাপক চাহিদা থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নেয়। খবর বাসসের।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের এক সমীক্ষা প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বিবি’র একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, বর্গাচাষী পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি সারাদেশে বর্গাচাষিদের স্বল্প সুদে ঋণ দিতে সক্ষম।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৯ সালে ‘শেয়ারক্রোপার্স রিফাইন্যান্স প্রোগ্রাম’ শিরোনামে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিলের উদ্বোধন করে। এই কর্মসূচির মেয়াদ ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কর্মসূচির তহবিলও ৬০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রুরাল এ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি (ব্র্যাক) এই ঋণ বিতরণের দায়িত্ব পায়। বিবি কর্মকর্তা বলেন, বর্গাচাষিদের মধ্যে এই ঋণের যথেষ্ট চাহিদা থাকায় কর্মসূচির মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং তহবিলও ছয়শ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে শেয়ারক্রোপার্স প্রোগ্রামের ওপর পরিচালিত এক যাচাই সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই ঋণদান কর্মসূচি অপ্রতিষ্ঠানিক ঋণদান প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্গাচাষিদের নির্ভরতা অনেকাংশে হ্রাস করেছে।

তিনি বলেন, প্রায় অধিকাংশ চাষি জানিয়েছে, ব্র্যাকের এই ঋণদান কর্মসূচির আওতায় তারা ঋণ নিয়ে আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছে। তারা এখন তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারছে। তাদেরকে ভাল খাবার ও কাপড় দিতে পারছে।

তিনি বলেন, চাষিরা এই ঋণ নিয়ে এখন আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছে। কৃষি যন্ত্রপাতি কিনে আধুনিক চাষাবাদ করায় কৃষি উৎপাদন যেমন বেড়েছে তেমনি কৃষি শ্রমিকের চাহিদাও বেড়েছে।

বিবি কর্মকর্তা জানান, এই কর্মসূচির অধীন নারীরাও তাদের পরিবারে ভূমিকা রাখতে পারছে। নারীরা কৃষি শস্য ফলাতে, প্রযুক্তি ব্যবহারে, পরিবারের খাবারে ও সন্তানদের লেখাপড়া করানোর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত দিচ্ছে। তিনি বলেন, এখন গ্রামীণ নারীরা নিরাপদ পানি পান এবং স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহার ও পরিবারের অসুস্থদের জন্য আধুনিক চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছে। এতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জিত হচ্ছে।

সমীক্ষায় উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত ৪৬ জেলার ২১৩টি উপজেলায় বর্গাচাষি ঋণদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির অধীন পুরুষ ও নারী বর্গাচাষীর সংখ্যা প্রায় যথাক্রমে ৪১.৩৯ ও ৫৮.৬১ শতাংশ।

ব্র্যাক ২০১৬ অর্থ বছরে ৩১৮৯৫৫ জন বর্গাচাষির মধ্যে ১১ বিলিয়ন টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। একই অর্থবছরে ৯.৫২ বিলিয়ন টাকার ঋণ আদায় হয়েছে। ব্র্যাক জানিয়েছে, ২০১৬ সালে বিতরণকৃত ঋণের মধ্যে ৯৯ শতাংশই আদায় হয়েছে।

বিবি ও ব্র্যাক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ১৪ লাখ বর্গাচাষির মধ্যে ৩০২৪ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ব্র্যাক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে শতকরা পাঁচ টাকা হরে ঋণ নিয়ে চাষিদেরকে শতকরা ১০ টাকা হরে ঋণ দিচ্ছে। এক বছরের জন্য এই ঋণ দেয়া হয়।

কারুনিউজ/২৬ আগষ্ট/এমআইএম

blog comments powered by Disqus