বেসিক্যালি যা বুঝলাম, আমি খুব খারাপ লোক

Nov. 1, 2017, 2:40 p.m. তারকা কথন


শূন্য থেকে শুরু করতে চান শিলাজিৎ। গান। আর জীবন? ‘ওবেলা’র প্রশ্নের মুখোমুখি তিনি। বয়সটা ৫৩ হল কিনা!

আপনি তো ঘুম থেকেই ওঠেন বিকেল ৪টের সময়। জীবনে এত ল্যাদ নিয়ে আবার শুরু?
(হাসি) অভিযোগটা ঠিক। আমার প্রচণ্ড ল্যাদ। কিন্তু ঠিক কী কারণে বলছেন বলুন তো?

আপনার সম্পর্কে অভিযোগ হল, আপনি একেবারেই অগোছালো। গুছিয়ে কেরিয়ার করতে পারেন না, বা পারেননি।
আমি একটু এলোমেলো। আর সত্যি বলতে কী, এ রকম করেই এগোতে চাই। ভক্তরা বলে ল্যাদ, কারণ সাত-আট বছর নতুন কোনও অ্যালবাম আমি করছি না। আমি আসলে আঁকায় কনসেনট্রেট করছি। তার সঙ্গে সঙ্গে মিউজিক্যাল এক্সপ্লোরেশনটাও চলছে। আমি জীবনে যেদিন প্রথম গান লিখেছিলাম, বিশ্বাসই করতে পারিনি একশোটা গান লিখব। একশোটা গানের মধ্যে গোটা পশ্চিমবঙ্গ ২৫টা গান জানে। আরও ৭৫টা গান রয়েছে, যেগুলো তাদের কাছে নতুন। আমি কেন আবার নতুন গান করতে যাব (হাসি)! 

কিন্তু ঝুঁকি তো ব্যাপারটা...।
আমি ‘ঘুম পেয়েছে বাড়ি যা’ গাই-ই না। ওই জায়গায় একটা নতুন গান থাকে। ‘পাখি’, ‘মানিকতলা’, ‘ঝিন্টি’ গাই না। বরং ধীরে ধীরে ‘ফিসফিস’এর গানগুলো চেনাচ্ছি। ‘বসুন্ধরা’ গানটা কবে লিখেছি, ২০০১’এ! রিলিজ করেছে ২০০৩’এ। সেই গানের জন্য রিকোয়েস্ট এখন আসছে। মিডিয়ামটাই তো বদলে গিয়েছে। কাজেই নতুন অ্যালবামের জন্য কোম্পানির খরচ করিয়ে কী লাভ? রিটার্ন-ই তো আসবে না। ডিজিটালেই এখন কিছু করব।

সেখানেও তো তেমন কিছু গোছাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে না...।
(জোরি হাসি) আমি পারলাম না। আমার জীবনটা গোছাতে আমি পারলাম না! রাতে ঘুমোতে যাই যখন, তখন মনে হয়, হ্যাঁ প্রচুর চেষ্টা করেছি। আই অ্যাম হ্যাপি দ্যাট স্টিল আই অ্যাম স্ট্রাগলিং। এস্টাব্লিশমেন্টটা হচ্ছে না। 

নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত এস্টাব্লিশ্‌ড হতে পারলেন না!  বুঝলেন তো, কেন আপনাকে ‘ল্যাদ’ বলা হচ্ছে?
গৌতম চট্টোপাধ্যায়দের কত সময় লেগেছে বলুন তো এস্টাব্লিশ্‌ড হতে! আমি অন্তত তাঁদের চেয়ে ভাল শেপে আছি। আমার গানগুলো তো এখনও সময়ের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। লোকে শুনে চমকে যাচ্ছে। ভাবছে, কী করবে। হাততালি দেবে, না কি ভয় পাবে (হাসি)! সেগুলো আসলে নাটক না গান, তারা বুঝতে পারছে না!

আপনার ব্যক্তিগত জীবনটাও তো রীতিমতো অগোছালো। বিশেষ করে আপনার সেপারেশন। সেটা কি গোছানো যেত না? নাকি বলবেন, আপনার হাতে কিছুই ছিল না?
আমার ইমোশনকে, আমার ইমিডিয়েট ইচ্ছেটাকে যদি পাত্তা না দিতাম, যদি দু’বার ভাবতাম, গোছালো লোকের মতো, তাহলে হয়তো জীবনটা অন্যরকম হতে পারত। সেটা ভাল হতো না খারাপ, বলা মুশকিল। তবে হ্যাঁ, মাঝে মাঝে মনে হয় কোথাও একটা ‘না’ বললে ভাল হতো। অনেকের কথা চিন্তা করার কোনও দরকার ছিল না। নিজের ভাবনাটা একটু বেশি ভাবলে ভাল হতো। 

আপনাদের ছেলে ধী’র কোনও সমস্যা হয়নি তখন?
ও শুধু বলেছিল, ‘আমার ব্যাপারটা বিশ্বাস হচ্ছে না’! এখন ধী বেঙ্গালুরুতে ডিজিটাল ডিজাইনিং নিয়ে পড়ছে। 

গান লিখবেনই না ঠিক করেছেন?
আসলে আমি যখন গান লিখেছি, তখন সেটা ভিতর থেকে বমির মতো বেরিয়ে এসেছে! ম্যানুফ্যাকচার করতে আমার ইচ্ছে করেনি। বেসিক গানের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে একটা ইস্যু নিয়ে গান লিখতে আমি পারব না। কেউ কেউ আছেন, তাঁরা পারেন। 

আপনার জীবনযাপন নিয়েও অনেকের অনেক প্রশ্ন। অনেকে তো এ-ও বলছেন, ‘গানবাজনা ছেড়ে দিয়ে শিলাজিৎ ওইসব নিয়েই আছে’। 
এসব বলবেই। কিছু করার নেই! এই সেদিনই আলোচনা করছিলাম, একটা লোক দেশের প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী, বা কোনও বড় নেতা। আমি না মিশেছি তার সঙ্গে, না বলেছি ভাল করে দু’টো কথা। তার বাড়িতেও যাইনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও বলে দিই, সে খারাপ না ভাল! আমরা পারসেপশন তৈরি করে নিই। আমি কলকাতায় বেশি সময় কাটাতে চাই না। তাই গ্রামের বাড়িতে কাটাই। সেটা থেকে লোকে কী না কী ভেবে নিচ্ছে! হ্যাঁ, আমার সিম্পল লাইফস্টাইল দেখে বলতে পারে, যে ইশ! শিলাজিতের বাড়ির তোয়ালেটা ছেঁড়া! শিলাজিৎ ছেঁড়া জামা পরে ঘোরে। ওর একটা গাড়ি ১২ বছর ধরেই চলছে! 

শিলাজিতের এত বান্ধবী কেন? হিংসায় কি তবে কুৎসা রটায় লোকজন?
আমি কী করে বলব, আমার এত মহিলা ভক্ত কেন! শিলাজিৎ লোকটা খুব খারাপ, ওর সঙ্গে মিশবি না বলে তো তাদের মা-বাবা পর্যন্ত বারণ করে। ওদের বলি, তোরা আসিস কেন? আমার সম্পর্কে তো ভীতিকর কথাবার্তা বলা হয়। আমি বলি, শরীরটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট। শরীরের একটা অংশ মন। এইটা বললেই লোকে শরীর থেকে একদম খাট পর্যন্ত চলে যায়! ভালবাসার সঙ্গে কাম যুক্ত হলে তবে প্রেম হয়, যেটা আমরা বুঝি। সঙ্গে সঙ্গে লোকে এটাই ভেবে নেয়, শিলাজিৎ কামটাই চাইছে। এর চেয়েও খারাপ কথা বলে আমাকে নিয়ে।

নেশা করা?
(হাসি) আমি নাকি নেশা করে স্টেজে উঠি! কী করে বোঝাই, গানের নেশাতেই তো আমার ডোপিং হয়ে যায়। আসলে সুস্থ-স্বাভাবিক লোক দেখেনি তো, যার এনার্জি এ রকম হতে পারে। তখন বলে, ‘মালটা বোধহয় কোকেন খেয়েছে বুইলি’! ‘মাল খেয়ে উঠে এসব করছে!’ বেশ করেছি! 

খ্যাঁদার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক, খ্যাঁদা কেন বাড়ি ছেড়ে অ্যান্টেনায় আপনার সঙ্গে থাকেন, এ নিয়েও তো যাচ্ছেতাই বলা হয়! খারাপ লাগে না?
খ্যাঁদার গান নিয়ে কিন্তু কোনও কৌতূহল নেই! প্রথম যেদিন ওকে দেখি, আমি অবাক। একটা মেয়ে নতুন-পুরনো, কিশোর-নচি, দ্বিজেন্দ্রলাল-শ্যামাসংগীত সব গাইছে! তাই আমি চেয়েছিলাম, ওর ভিতরের আর্টিস্টটা এক্সপোজ্‌ড হোক। ওর বাবা-মা চাননি, ও আমার সঙ্গে আসুক। প্রায় ঝগড়া করে নিয়ে এসেছি। একসঙ্গে থাকতে থাকতে তো সঙ্গ এসেছেই। প্রচুর সময় কাটিয়েছে ও আমার সঙ্গে। বদনাম হয়েও যদি ওকে ব্রেকথ্রু’টা পাইয়ে দিতে পারি, তাহলেই শান্তি। তবে খ্যাঁদা আমার চেয়েও ল্যাদখোর। ওকে ডেভেলপ করতে যাওয়াটা একটা সিনেমা!

খ্যাঁদার সঙ্গে সম্পর্কটাকে কীভাবে তাহলে ব্যাখ্যা করবেন?
আমি না এখনও বুঝিনি ও আমার প্রেমিকা, না শত্রু, না ছাত্রী? মা, না মেয়ে?

মিডলাইফ ক্রাইসিসের লক্ষণ এগুলো...।
(হাসি) প্রেম কিন্তু বাড়ছে। এটা যদি ক্রাইসিস হয়, তাহলে তাই। 

আর ‘ফিজিক্যাল নিড্স’? 
আমি এখনও পর্যন্ত এনকোয়্যারিতে আছি! যাঁরা ভাবছেন, আমার অনেক কিছুর অভাব, আমি ক্রাইসিসে আছি, তাঁরা বরং বেনামে আমার হয়ে একটা বিয়ের বিজ্ঞাপন দিয়ে দেখতে পারেন। লিভ টুগেদারেরও দিতে পারেন। পাত্র, শিলাজিৎ মজুমদার। সেপারেটেড। লিভ টুগেদার করতে চাইছেন। ১৮ থেকে ২৪’রা আগ্রহী হলে জানান।

আপনার ব্রেকআপ হয়?
চান্স কোথায়! কারও সঙ্গেই তো আমার রিলেশন নেই। আমার জীবনে তো তিনজন মহিলা। আমার মা, ঈলিনা আর খ্যাঁদা। বাকি সবই তো স্টেশন। তাদের সঙ্গে সাতদিনের পরে কোনও প্ল্যান নেই। ব্রেকআপ আমার হবে লাইফের সঙ্গে। আমি বিশ্বাস করি, একটা মিথ্যে চুমুর চেয়ে সত্যি থাপ্পড় অনেক ভাল। মহাপুরুষ হতে তো আর আসিনি। সকলের মতো পাপ-পুণ্য, সত্যি-মিথ্যা আমারও আছে। 

আচ্ছা, নচিকেতার সঙ্গে ঝগড়াটা কি পুরোটাই মিথ্যা? নাকি সত্যিই আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক আপনাদের?
আপনি জানেন, নচিকেতাকে কেউ শিলাজিৎকে নিয়ে জিগ্যেস করলে ও কী উত্তর দেয়? বলে, ‘শিলাজিৎকে খুব ভাল দেখতে’ (জোরি হাসি)! আমি তো বলি, আমার বিউটিফিকেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নচিকেতাকে। হি ইজ ভেরি সুইট! এই তো সেদিন একটা শো’এ গিয়ে নচিকে বললাম, ‘কী? এটা কি বৃদ্ধাশ্রম নাকি?’ এগুলোও তো ঝগড়াই! এগুলো চলুক না! এখনও পর্যন্ত যে ক’জন সমসাময়িকের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ আছে, তার মধ্যে একজন অবশ্যই নচি। কেউ কেউ আমার অ্যান্টি-পাবলিসিটি করার জন্যও আছে। তাদের নাম বললে বিতর্ক হবে। 

আত্মসমালোচনা করেন?
বেসিক্যালি যা বুঝলাম, আমি খুব খারাপ লোক। আই কুড হ্যাভ ম্যানেজ্‌ড মাই লাইফ ইন আ ডিফারেন্ট ওয়ে। আমি বললাম না, আমার জীবনে তিনজন মহিলা। যে ক্রাইসিসে পড়েছিলাম, আমি তাদের মধ্যে থেকে বেছে নিতে পারতাম। তুমি, নয়তো তুমি। আমি পারিনি। কিন্তু এটা আমার জীবনে বিরাট ক্রাইসিস ডেকে এনেছে। তার ফল ভোগ করছি।

সংগ্রহ: ebela.in

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: দেবমাল্য চক্রবর্তী