মানিকগঞ্জে ভাষা শহীদ রফিক স্মৃতি জাদুঘরে নেই কোন স্মৃতি চিহ্ন

Feb. 20, 2018, 4:44 p.m. জাতীয়


ভাষা শহীদ রফিক স্মৃতি জাদুঘরে শহীদ রফিকের কোন স্মৃতি চিহ্ন নেই। গ্রন্থাগারে অনেক বই থাকলেও ভাষা শহীদদের নিয়ে কোন বই নেই। জাদুঘরের সামনে রফিকের যে মুর‌্যাল স্থাপন করা হয়েছে তার সাথে রফিকের ছবির মিল না থাকায় এলাকাবাসী, পাঠক ও দর্শনার্থীদের মাঝে রয়েছে নানান ক্ষোভ।

অসীম শিকদার, মনিকগঞ্জ প্রতিনিধি

৫২’র ভাষা আন্দোলনের প্রথম বীর, শহীদ রফিক। ২০০০ সালে এই সুর্য সন্তানকে মরনোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকারের অনুমতিক্রমে, ২০০৮ সালে ভাষাসৈনিক রফিক উদ্দিন আহমদের স্মৃতিকে চিরজাগ্রত রাখতে তাঁর জন্মস্থান সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের পারিল গ্রামের নাম পরিবর্তন করে রফিকনগর নামকরণ করা হয়েছে এবং সেখানে এক বিঘা জায়গার উপরে গড়ে উঠেছে শহীদ রফিক আহমদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ভাষা শহীদ রফিক স্মৃতি জাদুঘরে শহীদ রফিকের কোন স্মৃতি চিহ্ন নেই। গ্রন্থাগারে অনেক বই থাকলেও ভাষা শহীদদের নিয়ে কোন বই নেই। জাদুঘরের সামনে রফিকের যে মুর‌্যাল (পাথর খচিত শহীদ রফিকের যে ছবিটি) স্থাপন করা হয়েছে তার সাথে রফিকের ছবির মিল না থাকায় এলাকাবাসী, পাঠক ও দর্শনার্থীদের মাঝে রয়েছে নানান ক্ষোভ। তাই মুর‌্যালটি প্রকৃত ছবির সাথে মিল রেখে স্থাপনের দাবী করেন এলাকাবাসী।

প্রতিবছর ফেব্র“য়ারি মাস এলেই সরগরম হয়ে উঠে জাদুঘর-গ্রন্থাগারটি। বছরের বাকী সময় থাকে অযতœ আর অবহেলায়। জাদুঘরে কিছু আলোকচিত্র থাকলেও নেই রফিকের কোন স্মৃতি চিহ্ন। পাঠাগারে কিছু বই থাকলেও সমকালীন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইয়ের অভাব রয়েছে। শহীদ রফিকের ওপর একটিমাত্র বই থাকলেও অন্য কোন ভাষা শহীদের কোন বই নেই গ্রন্থাগারে। এতে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানতে পারছে না নতুন প্রজন্ম।

জাদুঘর ও গ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান ফরহাদ হোসেন খান জানান, ২০১০ সালের দিকে বাংলা একাডেমী কিছু বই দিয়েছিল। এরপর আর কোন বই কিংবা রফিকের স্মৃতিচিহ্ন পাওয়া যায়নি। জাদুঘর দেখতে আসা মানুষ হতাশ হয়ে ফিরে যায়।

শহীদ রফিকের বাড়িতে তার ভাবী গুলেনুর বেগম বললেন, দীর্ঘদিন পর হলেও রফিকের বাড়িতে শহীদ মিনার নির্মান হওয়ায় খুশি তিনি। এখন তার আর চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই। শেষ সময়ে ভালভাবে মরতে পারলেই শান্তি পাবেন।

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড: গোলাম মহীউদ্দিন জানান, আসছে একুশে ফেব্র“য়ারির আগেই শহীদ রফিকের ছবির সাথে মিলিয়ে মুর‌্যাল স্থাপন সহ স্মৃতি চিহ্ন সংরক্ষন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুধু জাদুঘর আর পাঠাগার নির্মান করেই সরকার যেন এর দায়িত্ব এড়িয়ে না যায়। আজকের প্রজন্মকে ভাষা সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন এমন প্রত্যাশা সবার।