মানিকগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দোল পূর্ণিমা পালিত

March 1, 2018, 8:06 p.m. সমগ্র বাংলা


মানিকগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ’দোল পূর্ণিমা’ ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী পালন করা হয়েছে। সকাল থেকে শুরু হয়ে বিকাল পর্যন্ত এ উৎসব চলে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পরস্পরকে আবির মাখিয়ে এ উৎসব উদযাপন করেন।

অসীম শিকদার, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ’দোল পূর্ণিমা’ ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী পালন করা হয়েছে। এই উৎসবটি এলাকাভেদে হোলি, দোল পূর্ণিমা ও গৌর পূর্ণিমা উৎসব হিসেবেও পালন করা হয়। সকাল থেকে শুরু হয়ে বিকাল পর্যন্ত এ উৎসব চলে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পরস্পরকে আবির মাখিয়ে এ উৎসব উদযাপন করেন।

বৃহস্পতিবার এ উপলক্ষে জেলার লক্ষী মন্টপ, শিব বাড়ী, আনন্দময়ী কালীবাড়ীসহ বিভিন্ন মন্দির, পারা মহল্লায় ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী দোল পূর্ণিমার পুজা, হোমযজ্ঞ, প্রসাদ বিতরণসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। দিনব্যপি দোল পূর্ণিমার পুজা অর্চণা এবং ভক্তদের হলি খেলতে দেখা যায়। বিকেলে শিশু, তরুণ-তরুণীসহ সকল বয়সের নারী পুরুষ মেতে উঠে হোলি খেলায়। একে অপরের গায়ে আরির মাখিয়ে সার্বজনীয় এই পুজার আনন্দ উপভোগ করেন ভক্তরা।

বিভিন্ন মন্দির ঘুড়ে দেখা যায়, দোলযাত্রা বা দোল পূর্ণিমা হিসাবে পরিচিত এই উৎসবে মেতে উঠেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। হোলিতে অংশ নেওয়া গৃহবধু যমুনা মন্ডল বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় আমরা এবারো দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে পূজার্চনা ও পুজা শেষে আবির মেখে আনন্দ উল্লাস করেছি।

দোলযাত্রা হিন্দু বৈষ্ণবদের উৎসব। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে রাধিকা ও তার সখীগণের সঙ্গে আবির খেলেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল বা হোলি খেলার উৎপত্তি। এ কারণে দোল পুর্ণিমার দিনে হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা পুজা অর্চণারসাথে হোলি খেলার আনন্দে মেতে উঠেন। এ মতের বিশ্বাসীরা রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ আবিরে রাঙিয়ে দোলায় চড়িয়ে নগর কীর্তনে বের হন। এ সময় তারা রং খেলার আনন্দে মেতে ওঠেন। কোনও কোনও স্থানে এ উৎসবকে বসন্ত উৎসবও বলা হয়। দ্বাপর যুগে পুষ্পরেণু ছিটিয়ে রাধা-কৃষ্ণ দোল উৎসব করতেন। সময়ের বিবর্তনে পুষ্পরেণুর জায়গায় এসেছে ‘আবির’।

দোল পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি এ্যাড: অসীম কুমার বিশ্বাস মানিকগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।