মেধা নয়, শরীর আর মূর্খতাকে দেয়া হয় পরিচিতি এবং উপঢৌকন কর্পোরেট আর গণমাধ্যম’র আড়ালে

Oct. 10, 2017, 11:23 p.m. মতামত


একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেল প্রতিবছর তথাকথিত সুন্দরীদের রূপের বাজার বসায় তার উপর একটু ব্যবধান দিয়ে কখনো কখনো বসে বিশ্ব সুন্দরীর আসর।আছে গানের শিল্পী বাছাইয়ের নামেও সুন্দরী বাছাই কার্যক্রম।যদিও নিন্দুকেরা বলে,সবই কর্পোরেট চাহিদা মেটাতে নতুন নতুন নারীর আমদানী

তির্থক আহসান রুবেল :

একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেল প্রতিবছর তথাকথিত সুন্দরীদের রূপের বাজার বসায়, তার উপর একটু ব্যবধান দিয়ে কখনো কখনো বসে বিশ্ব সুন্দরীর আসর। আছে গানের শিল্পী বাছাইয়ের নামেও সুন্দরী বাছাই কার্যক্রম। যদিও নিন্দুকেরা বলে, সবই কর্পোরেট চাহিদা মেটাতে নতুন নতুন নারীর আমদানী। তবে তাতে মিডিয়া হয়ত কিছুটা লাভবান হচ্ছে, যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সব আর্টিস্ট। পত্রিকা বা টিভি চ্যানেলগুলো জায়গা ভরাট করতে নতুন সুযোগ পেয়ে যায়।

বাংলাদেশের এই সুন্দরীদের আবার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হচ্ছে রাষ্ট্র-সাহিত্য-সংস্কৃতি-ইতিহাস-মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সবচেয়ে কমন ১০ টি প্রশ্নের হয়ত কোনটারই জবাব দিতে না পারা। তবে শরীরের গঠন আর মিষ্টি মুখের যোগ্যতায় তাদের নানাভাবে প্রমোটের বাজারটা নেহাতই মন্দ নয়। কর্পোরেট দুনিয়া তাদের গাড়ী-বাড়ি-অর্থ-মুখ চেনানো সবকিছুর প্রচারণায় কোটি টাকাও খরচ করে বসে।

অন্যদিকে এই দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণী পড়ালেখা শেষ করে সরকারী-বেসরকারী নানা প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা এবং সুনামের সাথে কাজ করছে। গবেষণামূলক নানা কাজে তারা সফল হচ্ছে। তারা শরীর আর মুখের সৌন্দর্য্যে নয়, বরং মস্তিস্কের ধারে যোগ্যতর জায়গায় আসীন হচ্ছেন। জীবন রক্ষাকারী ঔষধ থেকে শুরু করে সমাজ-সভ্যতা-সংস্কৃতি রক্ষার নানা কাজে তারা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং সফল হচ্ছেন। তবে এসবের কোন স্বিকৃতি নেই। কারণ কর্পোরেট দুনিয়া মেধা নয়, শরীর সর্বস্ব মূর্খ এবং মেধাহীনদের প্রতিই বেশী আগ্রহী। কারণ তাতে ব্যবহারে সুবিধা, বাণিজ্যিক সুবিধা, রাষ্ট্র বা সমাজগত লাভ না থাকলেও। ফলে ঠিক এই সময় একটা মেয়ে হয়ত কোন মাইক্রোচিপ, কোন অতি জরুরী ওষুধ কিংবা কোন স্ট্রাকচারাল ডিজাইন নিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে না স্পন্সরের অভাবে। না রাষ্ট্র তাদের সহযোগীতা দিচ্ছে, না কর্পোরেট দুনিয়া না মিডিয়া।

শরীরকে কেউ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে, আবার কেউ মেধাকে! একটি রাষ্ট্রের, একটি সমাজের প্রতিচিত্র হিসেবে কোনটার মূল্যায়ন জরুরী? সার্টিফিকেটগত শিক্ষাগত যোগ্যতা সবার কপালে না-ই থাকতে পারে, কিন্তু ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাষ্ট্র, সমাজ, মূল্যবোধ বিষয়ক খুব সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কিত জ্ঞান এবং মূল্যবোধ কি থাকতে নেই দেশের তথাকথিক আইকনিকদের! যদি না থাকে, তাহলে কেন এদের আইকনিক হিসেবে সামনে আনতে কর্পোরেট দুনিয়ার তোষণ আর তথাকথিত বিকৃত ভাবধারার গণমাধ্যমের পোষণ!

আজ পর্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী, মেধাবী গবেষক, মেধাবী বিজ্ঞানী, মেধাবী শিক্ষক, মেধাবী বিতার্কিক, মেধাবী কেমিস্ট, মেধাবী প্রকৌশলী ইত্যাদি নানা সেক্টরের মেধাবী নারীদের নিয়ে কর্পোরেট দুনিয়া বা গণমাধ্যমকে কখনো তৎপর হতে দেখা যায় নি। হয়ত সপ্তাহান্তে ২/১ টি পত্রিকা কোন রকম ছোট্ট একটি কাভারেজ রাখেন, নামকাওয়াস্তে। তাতে হয়ত নিজেদের সামাজিকতাকে ধরে রাখেন! তাতে কি সত্যিকারের মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়ন হয়! এই দেশের মতো এতটা দেশপ্রেমহীন, শিক্ষাগত এবং আইকিউগত মূর্খ মেধাবী নারীদের মিডিয়া বিচরণ এবং প্রচারণা পৃথিবীর আর কোন দেশে আছে কিনা, খোদা মালুম।

নারীর শরীর ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলুক, তবে আইকনিক হিসেবে নারীর মেধাকে তুলে ধরা হোক মিডিয়ায় এবং তার সঙ্গী হোক কর্পোরেট দুনিয়া।