লজ্জা কার! দুই মন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষা বিকৃতকারী উপস্থাপিকা

Dec. 1, 2017, 1:58 a.m. বিনোদন


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হবেন। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এখানেই লজ্জিত দেশবাসী।

রাঙামাটিতে পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২০ বছর পূর্তি উৎসবে মাইক্রোফোন হাতে দেখা যাবে বাংলা ভাষাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা এক সাবেক আরজেকে। বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশপ্রেমী নাগরিকরা লজ্জিত হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তে। একটি জনপ্রিয় এবং সর্বোচ্চ পাঠকের পঠিত অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত এমন সংবাদে লজ্জিত এবং হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

জানা যায়, রাঙামাটিতে পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২০ বছর পূর্তি উৎসবে উপস্থাপনা করবেন তথাকথিত চিত্রনায়িকা এবং এফএম রেডিওর মাধ্যমে বিকৃত বাংলাভাষা প্রচলনকারী হিসেবে অন্যতম অভিযুক্ত নুসরাত ফারিয়া, যে কখনই প্রমিত বাংলায় কথা বলতে পারে নি! পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে শুক্র, শনি ও রোববার (১-৩ ডিসেম্বর) তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। একটি বহুল প্রচলিত এবং জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টালের মাধ্যম জানা যায়, বুধবার ফারিয়ার উপস্থাপনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।

আরো জানা যায়, রাঙ্গামাটি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হবেন। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এখানেই লজ্জিত দেশবাসী। কারণ উল্লেখিত দুজন মন্ত্রীর নাম-ই বাংলাদেশের সংস্কৃতি-সভ্যতা এবং মননের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুটো মন্ত্রণালয়ের প্রধান ব্যাক্তি। সেখানে কিভাবে প্রমিত বাংলা ভাষায় কথা বলতে না পারা কেউ উপস্থাপনায় আসতে পারে! অনেকে অনুষ্ঠানটির নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন! এছাড়াও অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে জানা গেছে।

অনুষ্ঠানটিতে বাংলাদেশের গান পরিবেশন করবেন বাংলা ভাষার জনপ্রিয় শিল্পীরা, যারা বাংলাতেই প্রকাশ করেন বাংলার আবহ! সে তালিকায় আছেন কনকচাঁপা, মমতাজ, ফিডব্যাক ও বাংলাদেশী আইডল মং। এছাড়াও স্থানীয় শিল্পীরাও নাচ ও গানে অংশ নেবেন। সংস্কৃতি মন্ত্রীর নেতৃত্বে চলা এক সময়ের বেসরকারী টিভি চ্যানেল দেশ টিভি সরাসরি পুরো অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করবে।

জানা গিয়েছে, ফারিয়ার পাশাপাশি উপস্থাপনায় আরও থাকবেন তানিয়া হোসেন।

পাহাড়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত নিরসনে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির ফলে পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসে, বন্ধ হয় সশস্ত্র সংঘাত। চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার পান। পাহাড়ে শান্তি স্থাপনে চুক্তি সরকারের একটি বড় অর্জন; তাই স্বাক্ষরের দিনটিকে ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উদযাপনে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আর এমন বার্তাতেই চমকে গিয়েছে সচেতন মহল। তবে কি প্রমিত বাংলাকে উপেক্ষ করে বিকৃত বাংলাকে সমর্থন প্রদান করার লক্ষ্যেই এমন আয়োজন! বাংলা ভাষা প্রেমী অনেকেই এ ব্যপারে সন্দিহান।