সোমেশ্বরী নদীর তীরে, সুসং দুর্গাপুর

কারু ডেক্স : আমরা বৈশাখের ছুটিতে সোমেশ্বরী নদী দেখতে গিয়েছিলাম। সোমেশ্বরী নদী সুসং দুর্গাপুর শহরের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা পাহাড়ি নদী।

গারো পাহাড়ে জন্ম নেওয়া এ নদীতে বর্ষা ছাড়া অন্য মৌসুমে নদীর তল পর্যন্ত দেখা যায়। এ নদীতে নৌভ্রমণ এখনও পর্যটক বান্ধব হয়ে ওঠেনি। অল্প পানিতে চলাচল উপযোগী নৌকা পাওয়া যায় না, তাই বর্ষাকাল ছাড়া নৌভ্রমণ দুষ্কর। বর্ষাকালে নুড়ি ও বালুবাহী নৌকাগুলো নৌভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়। ঘোলা পানির নৌভ্রমণে সোমেশ্বরীর আগ্রসি রূপটা দেখা যায়, রমণীয় রূপটা অধরাই থাকে। চোরাবালির জন্য এ নদীর কুখ্যাতি আছে। নিশ্চিত থাকুন, এ নদীর কোনো চোরাবালিই এক হাটুর চেয়ে বেশি গভীর নয়। তাই সোমেশ্বরীতে নিশ্চিন্তে নামা যায়।

সোমেশ্বরীর জন্ম ভারতে। উৎস থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত এ নদীর দূরত্ব টেনে-টুনে ২ কিলোমিটার।সোমেশ্বরী নদী বাংলাদেশে রাণীখং পাহাড়ের পাশ বেয়ে বরাবর শিবগঞ্জ বাজারের কাছ দিয়ে বরাবর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে ধনু নদীর সঙ্গে মিলেছে। রানীখং থেকে ধনু নদী পর্যন্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৭ কিলোমিটার।

সোমেশ্বরীর এক সময়ের এই মূলধারা এখন প্রায় বিলুপ্ত, বর্ষা ছাড়া অন্য কোনো মৌসুমে পানি প্রবাহ থাকে না। ১৯৬২ সালে ভীষণ পাহাড়ী ঢলে সোমেশ্বরী শিবগঞ্জ ঢালা থেকে সোজা দক্ষিণ দিকে নতুন গতিপথের সৃষ্টি করে।যা বর্তমানে সোমেশ্বরীর মূল স্রোতধারা হিসেবে পরিচিত। এই স্রোতধারা প্রায় ২৭ কিলোমিটার পেরিয়ে কংশ নদীতে পড়েছে। ১৯৮৮ সালে পাহাড়ীয়া ঢলে সোমেশ্বরী আরেকটি নতুন নদীর জন্ম দিয়েছে, নাম-আত্রাখালি নদী।সোমেশ্বরী নদীর আদি নাম সিমসাং।সোমেশ্বর পাঠক নামে এক সিদ্ধপুরুষের নাম অনুসারে পরবর্তীতে নদীটি সোমেশ্বরী নামে পরিচিতি পায়।

 

blog comments powered by Disqus