হাতে রাঙানো মেহেদীতে ঈদের খুশি

June 25, 2017, 2:26 p.m. মতামত

জারিন নিম্মি

মনে পড়ে খুব ছোটবেলায় ঈদের নতুন জামাজুতো কিনেই অপেক্ষায় থাকতাম কবে হবে চাঁদরাত। সেই রাতে খালামনিরা গাছের মেহেদীপাতা তুলে বা বাজার থেকে কিনে এনে বেটে সুন্দর করে নকশা করে হাতে পরিয়ে দিতেন কয়েকজনে মিলে। আমরা ছোটরা দেখতাম কার নকশা বেশি সুন্দর। গোল করে চাঁদতারা বানিয়ে বা কাঠি দিয়ে সুন্দর করে নকশা তুলতেন। বাজারে টিউব মেহেদী পাওয়া গেলেও লাল টুকটুকে রঙের কারনে বাটা মেহেদী টাই বেশি ব্যবহার করতেন মা খালামনি রা। কি সুন্দর হাতের নিপুন কারুকাজ নকশায় সাজানো হত হাতে। শুধু কি তাই? মেহেদীর রঙ কে আরো গাঢ় করে তুলতে চুন,  খয়ের,  সরিষার তেলসহ আরো কত কি উপকরনের ব্যবহার। অনেক সময় মেহেদী হাতে রেখেই ঘুমিয়ে পড়তাম, সারারাত রেখে সকালে ধুয়ে ফেলতাম যেন মেহেদীর রঙ অনেক বেশি টকটকে হয়। ঈদের আনন্দে মাখামাখি হয়ে যেতো চাঁদরাতের সেই মেহেদী রাঙানো দিনগুলো। সময়ের বিবর্তনে এই আনন্দের ও পরিবর্তন ঘটেছে। হাতে বাটা মেহেদীর ব্যবহার এখন বিলুপ্তির পথে। এখন শুধু চাঁদরাতের অপেক্ষায় না থেকে ঈদের ৪/৫ দিন আগে থেকেই মেয়েরা ছোটে বিউটি পার্লারে। দু হাত ভরে নান্দনিক আকর্ষনীয় ডিজাইনে রাঙিয়ে তোলে অভিজ্ঞ বিউটিশিয়ান দের দিয়ে। ঈদের কিছুদিন আগে থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন ব্রান্ডের মেহেদী উৎসব।  আর যারা পার্লারে যান না তারা বাজার থেকেই কিনে নেন মেহেদী টিউব। প্রতিটি পরিবারেই থাকে বিশেষ কেউ বা কয়েকজন যারা মেহেদী পরাতে পারদর্শী। বাড়ির ছোটবড় সবাই ভীড় জমায় তাদের কাছে হাতে মেহেদী পরার জন্য। বাজারে এখন নানা ব্রান্ডের মেহেদীর মাঝে এমন কিছু মেহেদী আছে যা কিনা এক বা দুই মিনিটেই রঙ হয়ে যায়। ক্যামিক্যাল যুক্ত সেই মেহেদী ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা রাখা জরুরী। প্যাকেটের গায়ে মেয়াদ দেখে কিনতে হবে। অনেক সময় মেয়াদোত্তীর্ণ মেহেদী হাতে পরলে হাতের চামড়ায় ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে। ১/২   মিনিটে রঙ হওয়া বিশেষ মেহেদী ছাড়াও স্বাভাবিক মেহেদী টিউব ও বাজারে পাওয়া যায়। সেসব মেহেদী হাতে লাগালে ধুয়ে ফেলার পর হাতে সরিষা বা নারিকেল তেল লাগালে হাতে মেহেদীর রঙ বসে যায় ভালো ভাবে।

সেকাল বা একাল যাই হোক বা যেভাবেই হোক ঈদ বা বিশেষ কোন দিনে মেহেদীর প্রতি আমাদের দূর্বলতা কোন অংশেই কমেনি। হয়তো ব্যবহার বা প্রয়োগে পরিবর্তন এসেছে তবে আকর্ষন যেন সেই একই রয়ে গেছে। নতুন পোষাক আশাকের সাথে সাথে ঈদের আনন্দ যেন পরিপূর্ণতা পায় মেহেদী রাঙা দুটি হাতে।

blog comments powered by Disqus