৩ টি বড় প্রাপ্তির নাম ‘চল পালাই’

Dec. 10, 2017, 12:10 a.m. বিনোদন


চৌর্যবৃত্তি থেকে বেরিয়ে আলোর মুখ দেখালেন চলচ্চিত্র নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাস। সিনেমার টাইটেলে লেখা উঠলো: গল্প রজনিশ ঠাকুর।

 

তির্থক আহসান রুবেল

আব্দুল্লাহ জহির বাবু যুগ প্রবর্তনের আগে ভিনদেশী সিনেমা অবলম্বনে কোন সিনেমা নির্মাণ হলে পর্দায় বড় করে লেখা উঠতো ‘বিদেশী কাহিনী অবলম্বনে’। আব্দুল্লাহ জহির বাবু যুগে প্রতিটি সিনেমাই নকল/চুরি/কপি হলেও নূন্যতম দায়টুকু স্বীকার না করে পর্দায় ভেসে উঠতো কাহিনি: আব্দুল্লাহ জহির বাবু। অন্ত:ত সে চৌর্যবৃত্তি থেকে বেরিয়ে আলোর মুখ দেখালেন চলচ্চিত্র নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাস। সিনেমার টাইটেলে লেখা উঠলো: গল্প রজনিশ ঠাকুর। এই সততা বাংলাদেশী সিনেমার একটা বড় প্রাপ্তি।

রজনিশ ঠাকুরের এই গল্পটি নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক সিনেমা নির্মিত হয়েছে ভারত এবং বাংলাদেশে। তাহলে এই সিনেমায় নতুন কি ছিল! সেই প্রশ্নের জবাব পাওয়া গেল সিনেমার পর্দায়। একদম বাংলাদেশী আবহে বাংলাদেশী নির্মাণ। সেই সাথে শুধুমাত্র গল্পের বেসিক এক হলেও বিন্যাস একদমই আলাদা অন্যগুলোর চেয়ে।

শাহরিয়াজ পাগলা হলে কতটা হতে পারে, তার একটা ঝলক দেখা গেল পুরো সিনেমাতেই। আর মিষ্টি মুখের তমার পর্দায় উপস্থিতি কম বা বেশী মিষ্টি নয়, একদম পারফেক্ট। মুখে পুরলেই স্বাদে চোখ বন্ধ। শাহরিয়াজ বলেছিলেন, চল পালাই মূলত শাহরিয়াজ শো। আসলেই তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে বড় চমকের নাম শিপন। ছেলেটা তো অভিনয় শিখে গেছে! এটা ‘চল পালাই’ সিনেমার দ্বিতীয় বড় প্রাপ্তি।

সিনেমাটিতে খারাপ কি নেই! অবশ্যই আছে। সেটা হচ্ছে নায়লা নাঈমের গান এবং উপস্থিতি। যা আসলেই বিরক্তিকর।

সিনেমা কলাকুশলীদের মন্দভাগ্যের কথা জানাই দুটো। প্রথমত যেদিন মুক্তি পায়, সেদিন বিপিএল এর দুটো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আর আমরা সবাই জানি, বর্তমানে দেশের রিক্সাওলারাও ক্রিকেট জুয়ায় আসক্ত। ফলে শুক্রবার সিনেমাটি যে পরিমাণ ব্যবসা করেছে, সেটি আশানরূপ হলেও, খেলা না থাকলে তার কয়েকগুণ ব্যবসা হতো। আর দ্বিতীয়ত শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টি সারাদেশে। এই না হলে মন্দকপালের উপর শনির দশার রাজত্ব!

হলে বসে যখন সিনেমাটি দেখছি তখন দর্শকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছিল। কেউ বলছিলো রাস্তা শেষ হয় না ক্যান! কেউ শাহরিয়াজের অভিনয় দেখে বলছে, পরিচালক এক পাগল, সিনেমাও বানাইছে পাগল নিয়ে। দুটোতেই বোঝা গেল দর্শক মনোযোগী। শিপন-তমার গানটি শ্রুতিমধুর এবং চোখে শান্তি দিয়েছে। শাহরিয়াজ-তমার গানটিতে বোধহয় গায়ক-গায়িকার কন্ঠ মিউজিকের নিচে পড়ে গেছে। তাই নয়েজ লেগেছে। তবে সুর খুবই চমৎকার। আর দুটো গানেই সবাই ভাল পারফর্ম করেছে। আর লো বাজেট সিনেমায় ক্রোমার ব্যবহার সব সময়ই আত্মঘাতি। হয়ত পরিচালকের দক্ষতায় মরতে মরতেও মরেনি, বরং ভালভাবেই বেঁচে গেছে।

শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’র পর নির্মাতা আরো দুটো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, শুভ বিবাহ এবং ভালবাসা জিন্দাবাদ। ১ম সিনেমাটি বাংলাদেশী সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম সুপার-ডুপার-বাম্পার হিট সিনেমা হলেও পরের দুটো নিয়ে দর্শকরা হতাশ হয়েছিল। দেবাশীষ বিশ্বাস সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘দশ বছর আগে হলে আমি এই সিনেমাটি বানাতাম না। এই দশ বছরে আমি যেমন ম্যাচিউর হয়েছি, অভিজ্ঞ হয়েছি, দর্শকও হয়েছে’। দেবাশীষ বিশ্বাস সত্যিই নির্মাণগত দিক থেকে শুধু ম্যাচিউর না, দেখিয়েছেন কিভাবে একটি সিনেমার সফল নির্মাণ করতে হয়। নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাস ‘চল পালাই’ সিনেমার তৃতীয় এবং সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

বদলে যাওয়া বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের নতুন ধারায় সু-স্বাগত নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাসকে।